প্রকাশিত:
১১ সেপ্টেম্বার ২০২৬, ২২:২১
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক সোনা মসজিদ তোহাখানা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় শাহ্ নেয়ামতুল্লাহর বার্ষিক ওরস মোবারক। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এ আয়োজনকে ঘিরে বসে ঐতিহ্যবাহী মেলা, সমবেত হন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভক্ত, মুসল্লি ও দর্শনার্থীরা।
শাহ্ নেয়ামতুল্লাহর জন্ম ও ওফাত শুক্রবারে হয়েছিল এবং ভাদ্র মাসের শেষ শুক্রবার তিনি ওফাত নেন তাই বছরের এই দিনটি স্মরনে ভাদ্র মাসের শেষ শুক্রবার ওরস পালন করা হয়ে থাকে বলে জানান তার ১৫তম বংসধর সৈয়দ মুনিরুজ্জামান (মার্শাল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওরসকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৫ দিন ধরে সোনা মসজিদ থেকে ঐতিহাসিক তোহাখানা কমপ্লেক্স পর্যন্ত বসে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রীর মেলা। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে। ফলে পুরো এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
মূল ওরসের দুই দিন আগে থেকেই ভক্ত ও আশেকানরা মাজারে আসতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। রাতে মাজার প্রাঙ্গণে জিকির-আজকার, দরুদ, আধ্যাত্মিক আলোচনা ও সুফি সংগীতের আয়োজন চলে। মাজারের পূর্বদিকে বাগান প্রাঙ্গণে তাবু স্থাপন করে বিভিন্ন সুফি সাধক ও সাধনসঙ্গীরা অবস্থান করেন।
ভাদ্র মাসের শেষ শুক্রবার ওরসের প্রধান দিন। জুমার নামাজের পর মাজার শরিফে গিলাফ পরানো হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ মাহফিল ও আখেরি মোনাজাত। মোনাজাত শেষে শাহ্ নেয়ামতুল্লাহর পরিহিত ও ব্যবহৃত বলে স্থানীয়ভাবে সংরক্ষিত পোশাক জনসম্মুখে আনা হয়।
এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ভাদ্র মাসের শেষ শুক্রবারের মেলাটি স্থানীয়ভাবে ‘গুদরি শুকানোর মেলা’ নামেও পরিচিত। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় শাহ্ নেয়ামতুল্লাহর ওরস শিবগঞ্জের মানুষের কাছে ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
করিমোল্লাহ/আ.আ
মন্তব্য করুন: