প্রকাশিত:
৩ নভেম্বার ২০২৬, ২১:১১
গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সরকার সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত দামের চেয়েও বেশি দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে সিন্ডিকেটের ব্যবসা ও কমিশন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে ২৯ দিনের মধ্যে দুই দফা এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আজকে রাতের প্রায় ১০টা বাজে আপনাদের কষ্ট দিয়ে সংবাদ সম্মেলন রাখতে হলো। কিন্তু আমাদের আসলে কিছু করার নেই। সরকার এমন সময় সিদ্ধান্ত জানায়, যাতে করে আমরা কোনো প্রতিবাদ করতে না পারি। কিন্তু আমাদের তো প্রতিবাদ করতে হবে। আমাদের মানুষের কথা বলতে হবে। যে কারণে আপনাদের কষ্ট দিয়ে ডাকা। কেউ কষ্ট নেবেন না এবং আমাদের কথাগুলো পৌঁছে দেবেন।
তিনি বলেন, আপনাদের মনে থাকার কথা আওয়ামী লীগের সময় একবার হঠাৎ করে তেলের দাম বাড়ানের ঘোষণা এসেছিল রাত ১২টায়। ঐ সময় স্বাভাবিকভাবেই সবাই ঘুমিয়ে যায়। ওনারা মনে করেছিল, সকাল হতে হতে আর কেউ কিছু মনে রাখবে না।
এনসিপির এই নেতা বলেন, এই সরকার আসার পরে সম্ভবত তৃতীয় কিংবা চতুর্থ দফা গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো। এই সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩৬০ টাকা। আজকে দাম বাড়ানোর পরে সেটা হয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা। অর্থাৎ একদম নজিরবিহীনভাবে প্রায় নয় মাসে দাম বেড়েছে ৭০০ টাকা।
তিনি বলেন, গ্যাসের দাম যখন ১ হাজার ৮৩৭ টাকা ছিল, তখন জনগণকে বাজার থেকে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছিল ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ, নির্ধারিত দামের থেকেও প্রায় ৬০০-৭০০ টাকা বেশি দিয়ে। আর এখন যেহেতু গ্যাসের দাম ২ হাজার ৬০ টাকা সেক্ষেত্রে আমরা ধারণা করছি আনঅফিশিয়াল দাম ৩ হাজার টাকার কাছাকাছি চলে যেতে পারে।
সাধারণ মানুষের আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, চলমান শ্রমিক আন্দোলনের মতো, আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামনের দিনে হয়তো অসন্তোষ দেখতে হবে। কারণ, এলপিজি গ্যাসের এই যে প্রায় ৫০ শতাংশের মতো, ৭০ শতাংশের মতো হাইকের প্রভাব অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও পড়বে। সাধারণ নাগরিকের আয় তো বাড়ছে না। তাদের বেতন বাড়ানো হচ্ছে না। ফলে তারা যদি সংসার না চালাতে পারে, দিন শেষে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে তাদের রাজপথে নেমে আসতে হবে।
গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী চার দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা দেখছি এই দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটা ঘটনা ঘটেছে। আজকে একটা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে আগামী চার দিন গ্যাস থাকবে না। কোনো লাইনেই গ্যাস থাকবে না। তো আমরা সন্দেহ করছি, যে সিন্ডিকেট পুরো এলপিজি গ্যাসের সেক্টরটাকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের সঙ্গে সরকারের একটা স্পষ্ট যোগসাজশ এখানে দিনে দিনে স্পষ্ট হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনেক এলাকায় বাসাবাড়িতে নিয়মিত গ্যাস পাওয়া যায় না। কোথাও রাতে বা বিকেলে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য গ্যাস আসে। তখন মানুষ রান্না করে রাখে। কিন্তু চার দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলে এসব পরিবারকেও বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার কিনতে হবে। অর্থাৎ যাদের সিলিন্ডার ব্যবহারযোগ্য ছিল না, তাদেরও ফোর্সফুলি সিলিন্ডার কিনতে এক ধরনের বাধ্য করা হচ্ছে।
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, এটার মধ্য দিয়ে সিলিন্ডার সিন্ডিকেটের ব্যবসার ইকোসিস্টেমটাকে বেনিফিট দেওয়া হচ্ছে। গ্যাসের প্রস্তাবিত দামের থেকেও সরকার আরও বেশি দাম বাড়িয়েছে। অর্থাৎ এখানে স্পষ্টভাবেই সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিয়ে, সিন্ডিকেটের ব্যবসায় সুবিধা দিয়ে কমিশন বেড়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা আমরা দেখতে পাচ্ছি।
দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনের কথা জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, আজকে এই দাম বাড়ার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করেছি। আগামীতে আমাদের হয়তো আরও বড় ধরনের কর্মসূচিতে যেতে হতে পারে। কারণ, যেভাবে দাম বৃদ্ধি হচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে দেশের জনগণের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা চুপ থাকতে পারি না।
তিনি বলেন, সামনের দিনে এই দাম যদি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে না আসা হয়, যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা না হয় এবং নির্ধারিত দামে যদি সিলিন্ডারসহ অন্যান্য যে জ্বালানি সম্পদ রয়েছে, সেগুলো বিক্রি না হয়, তাহলে আমাদের কিন্তু এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনসহ জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট যারা রয়েছেন তাদেরও ঘেরাও করতে হতে পারে।
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সেই পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে জনগণের কান্না শুনেন, জনগণের কথা শুনেন এবং সব ধরনের এলপিজি, জ্বালানি দ্রব্য ও বিদ্যুৎসহ সবকিছুর দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসেন। আজকে এখান থেকে এটাই আমাদের দাবি।
ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: