প্রকাশিত:
২৮ অক্টোবার ২০২৬, ১৬:৩০
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার নৃশংস হামলায় নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ২৮ অক্টোবর শুধু একটি তারিখ নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রক্ত, কান্না ও নির্মমতার এক কলঙ্কিত অধ্যায়। সেদিন মানুষের জীবনের ওপর যেভাবে বর্বরতা চালানো হয়েছিল, তা সভ্য সমাজের বিবেককে আজও নাড়া দেয়।
তিনি বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সেদিন দেশব্যাপী তাণ্ডব চালায়। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামীর জনসভায় লগি-বৈঠা, লোহার রড ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ঢাকাসহ সারাদেশে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৪ জন নেতাকর্মী নিহত এবং সহস্রাধিক মানুষ আহত হন। নিহতদের নিথর দেহের ওপর নৃত্য করে উল্লাসের যে পৈশাচিক দৃশ্য দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল, তা জাতির বিবেককে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। সন্তানহারা মা-বাবা, স্বামীহারা স্ত্রী এবং স্বজনহারা পরিবারগুলোর বুকফাটা আর্তনাদ আজও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় দায়ের করা মামলা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রত্যাহার করে বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। দীর্ঘদিন ধরে বিচার না হওয়া নিহতদের পরিবারের প্রতি চরম অবিচার। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ক্ষমতার দাপট হত্যাকাণ্ডের বিচার আটকে রাখার অজুহাত হতে পারে না। আমরা প্রতিশোধ চাই না, আমরা ন্যায়বিচার চাই; আমরা প্রতিহিংসা চাই না, আমরা হত্যাকারীদের আইনের আওতায় দেখতে চাই।
ড. হামিদ আযাদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল—দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটবে। অতীতের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে। তাই ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলো পুনরায় সচল করে নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, তাঁদের পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান যেন ঘটে—এটাই আজ জাতির নৈতিক দায়িত্ব।
পরিশেষে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে ২৮ অক্টোবর নিহতদের শহীদ হিসেবে কবুল করার দোয়া করেন। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিদের এবং তাঁদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি নিহতদের রুহের মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক কামনা করেন।
ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: