প্রকাশিত:
২৭ অক্টোবার ২০২৬, ২৩:২৩
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা শহীদ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের দাফনে অংশ নিতে গিয়ে পথে পথে বাধার মুখে পড়েছিলেন তাঁর স্বজনেরা। এমনকি দাফনস্থলের কাছাকাছি পৌঁছেও পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশীদের বাড়ির উঠোনের মধ্য দিয়ে দাফনস্থলে পৌঁছান পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে বাবার দাফনের সময়কার স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন জামায়াত নেতা মুজাহিদের ছেলে সাংবাদিক ও লেখক আলি আহমদ মাবরুর।
পোস্টে তিনি জানান, শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ও শহীদ মুহাম্মাদ কামারুজ্জামানের জানাজায় তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নিতে পারেননি। এরপর তৃতীয় সিরিয়ালে তাঁর বাবা শহীদ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হলে পরিবারের সদস্যরা জানাজায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে ঢাকায় ফাঁসির আগে ও পরে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে।
আলি আহমদ মাবরুর লেখেন, এলাকার আশপাশ আগের দিন সন্ধ্যার পর থেকেই পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন অবরোধ করে রেখেছিল। কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে, কেউ মাগরিবের নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে পরদিন ফজরের নামাজের পর জানাজা আদায় করে বের হতে পেরেছেন।
তিনি জানান, কারাগার থেকে বের হয়ে তাঁরা ঢাকার বাসায় না গিয়ে সরাসরি ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, স্থানীয় আওয়ামী লীগ বা পুলিশ এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যাতে তাঁরা আর বের হতে না পারেন। পথে পথে বাধা মোকাবিলা করেই তাঁরা ফরিদপুরের দিকে এগিয়ে যান।রাজনৈতিক খবর পড়ুন
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ফরিদপুরের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি অংশ তাঁর বাবাকে সেখানে দাফন করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে তাঁরা সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারও ঢাকার কোথাও দাফন হোক, তা চায়নি। ফলে ফরিদপুর ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। পরে আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্তে ওই নেতাদের একাংশকে শান্ত করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।
আলি আহমদ মাবরুর জানান, সব বাধা পেরিয়ে দাফনস্থলের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর তাঁরা আবারও পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে রেখেছিল। পরে নানা কৌশলে প্রতিবেশীদের বাড়ির উঠোনের মধ্য দিয়ে দাফনস্থলে পৌঁছান তাঁরা। তখন সম্ভবত রাত আড়াইটা বাজে।
তিনি লেখেন, স্থানীয় জামায়াত নেতারা তাঁদের সরাসরি দাফনস্থলে চলে যেতে বলেছিলেন। কারণ, দেরি করলে বা প্রথমে বাড়িতে গিয়ে পরে আসতে চাইলে হয়তো আর সেখানে যাওয়া সম্ভব হতো না। পরিবারের নারী সদস্যরাও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। তাঁরাও সেখানে আটকা পড়েন। দাফনস্থলের পাশের মাদ্রাসার বিভিন্ন কক্ষে নির্ঘুম রাত কাটান তাঁরা।
সেই রাতের ব্যক্তিগত স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানান, তখন তাঁর ছেলের বয়স ছিল মাত্র আড়াই মাস। নভেম্বরের শীতের রাতে সন্তানকে নিয়ে তাঁর স্ত্রী ও তাঁকে একটি অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল।
আলি আহমদ মাবরুর আরও লেখেন, এর প্রায় এক ঘণ্টা পর তাঁর বাবার লাশ সেখানে পৌঁছায়। তাঁরা বুকের ওপর পাথর চেপে বাবার লাশ গ্রহণ করেন। তখনও পুরো কফিনজুড়ে উষ্ণ রক্ত ছিল এবং লাশ মোড়ানো প্লাস্টিকের সর্বত্র রক্তের ফোঁটা লেগে ছিল।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, কয়েক ঘণ্টা আগেও যে বাবাকে আলিঙ্গন ও মুসাফাহ করে এসেছিলেন, তাঁকে লাশ হিসেবে গ্রহণ করার অনুভূতি সন্তানের পক্ষে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
সাম্প্রতিক নানা ঘটনা পড়তে গিয়ে সেই স্মৃতিগুলো বারবার মনে পড়ছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন আলি আহমদ মাবরুর।
ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: