প্রকাশিত:
৭ জুলাই ২০২৬, ২২:২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং টোল আদায়ের মতো স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া।
মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
ফেসবুক পোস্টে বিএনপি নেত্রী পাপিয়া উল্লেখ করেন, একটি বিশেষ দলের একজন বিশেষ ব্যক্তি সাধারণ নিরীহ মানুষকে টোল ফ্রি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক প্লেট ভাত ও মাংস খাইয়ে ভোট নিয়েছেন। কিন্তু ভোটের পর সাধারণ নিরীহ অটোচালক, রিকশাচালক ও মোটরসাইকেল চালকদের চাপ আর সহ্য করতে পারছে না। এখন তারা হারুন সাহেবকে দোষ দিচ্ছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার রাজস্ব আদায় করবে। কোন পদ্ধতিতে রাজস্ব আদায় হবে, সেটি সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়। নবাবগঞ্জে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন না, নবাবগঞ্জকে উত্তপ্ত করবেন না। হারুন সাহেব যতবার নির্বাচিত হয়েছেন, ততবার একটি শান্তিপূর্ণ নবাবগঞ্জ গড়ে তুলেছেন। হারুন সাহেব ছাড়া অন্য কেউ এমপি হলে অশান্তির নবাবগঞ্জ তৈরি হয়, এটি শান্তিপ্রিয় নবাবগঞ্জবাসী পছন্দ করে না।
বিপরীত পক্ষের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি নেত্রী আরও বলেন, যার যে কাজ করার সামর্থ্য বা মুরাদ নেই, সেই কাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত নয়। আপনার তো বায়তুল মালের টাকা আছে। আপনি নিজেই টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে মহানন্দা সেতুর ইজারা নিন। সরকারকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বায়তুল মালের টাকা দিয়ে ইজারার মূল্য পরিশোধ করুন, তারপর জনগণের জন্য টোল ফ্রি করে দিন। তাহলে আপনার ওয়াদাও ঠিক থাকবে। কিন্তু আপনি নিজে জনগণের জন্য ৫ টাকাও খরচ করবেন না, আবার সরকারি রাজস্ব আদায়েও বাধা দেবেন, এভাবে তো নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ হয় না।
এলাকার উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে পোস্টে বলা হয়, সরকারের কাছে রাস্তা, কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য উন্নয়ন চান, আবার যাকাতের টাকাও নেন। সরকার কি জমি বিক্রি করে আপনাকে টাকা দেবে? সরকার রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমেই উন্নয়নের অর্থ জোগাড় করে। আপনার এলাকায় যে কয়টি রাজস্ব আদায়ের খাত রয়েছে, সেগুলোই যদি বন্ধ করে দিতে চান, তাহলে উন্নয়নের অর্থ আসবে কোথা থেকে? হারুন সাহেবকে দোষ দেওয়া ঠিক নয়। রাষ্ট্রের আইন, বাস্তবতা ও নিজের সামর্থ্য বুঝে প্রতিশ্রুতি দিতে হয়। মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোট নিয়ে পরে নতুন করে ধোঁকাবাজি করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
একই সাথে নারায়ণগঞ্জ ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবার নামে চলা এক অভিনব ধোঁকাবাজির অভিযোগ তুলে ধরে তীব্র সমালোচনা করেন এই নেত্রী। তিনি জানান, যেমন নারায়ণপুর ইউনিয়নে 'নৌ-অ্যাম্বুলেন্স'-এর নামে একটি মেশিনচালিত নৌকার ওপর বেড়া দিয়ে, একটি স্ট্রেচার ও একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার বসিয়ে বিশাল কিছু করে ফেলেছেন বলে প্রচার করা হচ্ছে। অন্তত একটি স্পিডবোট দিলেও সেটি কিছুটা মানানসই হতো। অথচ একটি সাধারণ মেশিনচালিত নৌকাকে 'নৌ-অ্যাম্বুলেন্স' বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
একটু ভেবে দেখুন, কোনো রোগীর অক্সিজেন লাগবে কি না, সেটি ডাক্তার বা নার্স ছাড়া কে সিদ্ধান্ত নেবে?
এসব ধোঁকাবাজি মানুষ বোঝে। এগুলো দিয়ে বেশিদূর এগোনো যায় না। ধোঁকা দিতে থাকুন, তবে মানুষ একদিন প্রকৃত সত্য অবশ্যই উদ্ঘাটন করবে।
এম.এ.এ/আ.আ
মন্তব্য করুন: