প্রকাশিত:
২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩:১৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট রোজার মাঝেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলো সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সারাদেশের মতো সীমান্ত ঘেঁষা চাঁপাইনবাবগঞ্জেও নারী সংরক্ষিত আসনে নেতৃত্ব নিয়ে চলছে আলোচনা ও বাড়ছে আগ্রহ এবং এই সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া এবং জেলা মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক মাসউদা আফরোজা হক সূচীর নাম বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এছাড়া আলোচনায় আরোও রয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাদিরা চৌধুরি, ভোলাহাট উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা দলের নেত্রী শাহনাজ খাতুন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাইমা খাতুন।
দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকা অ্যাডভোকেট সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেত্রী হিসেবে পরিচিত। এর আগেও তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সংসদে জোরালো ভূমিকা রেখেছিলেন। এবারের নির্বাচনেও সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন দৌড়ে তিনি অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ মনে করছে, দলের প্রতি তার ত্যাগ এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় তিনি আবারও দলের মনোনয়ন পেতে পারেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করতে এবং সংরক্ষিত আসনে নাম লেখাতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন জেলা মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক মাসউদা আফরোজা হক সূচী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীও ছিলেন তিনি। পরে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সংসদ অংশগ্রহণ করেননি। এছাড়া সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন এবং নিজের প্রার্থিতার বিষয়টি দলীয় হাইকমান্ডের নজরে আনার চেষ্টা করছেন। নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি নিজেকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন।
এছাড়াও জেলা থেকে অনান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা উঠান-বৈঠক গনসংযোগসহ নানান দোড়ঝাঁপ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা পরাজয় বরণ করেছে। ফলে বিএনপির সরকার উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড, ফ্যামেলী ও কৃষি কার্ডসহ নানান পদক্ষেপ ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য হলেও এই জনপদ থেকেই একজন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য প্রয়োজন। যাতে এই জনপদের তৃণমূলের দাবি ও চাওয়া এবং আকাঙ্খার প্রতিফলন তারা সংসদে ঘটাতে পারে।
বিএনপির নেত্রী অ্যাডভোকেট সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া বলেন, স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনসহ দীর্ঘ ২৬ বছর আন্দোলন সংগ্রামে দলের সাথে ছিলাম। কখনো পিছ পা হয়নি। এর আগেও সংসদে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছি। সংরক্ষিত আসনে দল কাকে কিভাবে বিবেচনা সেটি বলতে পারবো না, এটি দলের বিবেচ্য বিষয়।
বিএনপির নেত্রী নাদিরা চৌধুরী বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে দলের সকল আন্দোলন সংগ্রামে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাঠে ছিলাম। তাই সংরক্ষিত আসনে এমপি হিসেবে কাজ করার সুযোগ চাই। আমি এমপি নির্বাচিত হতে পারলে তারেক রহমানের নির্দেশে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য কাজ করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
শিবগঞ্জ উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাইমা খাতুন বলেন, দলের দু:সময়ে নারী হয়েও মাঠে থেকেছি। পুলিশ ভয় রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে। এখন অনেকের নাম শুনতে পাচ্ছি। তবে দলের কাছে দাবী ত্যাগের মূল্যায়ন করা হোক। দল যদি আমাকে মূল্যায়ন করে তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
আরেক ভোলাহাট উপজেলা আরেক সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহনাজ খাতুন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েও ঠিকমতো চেয়ারে বসতে পারেনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছে। তাই বিএনপিকে ক্যামব্যাক করার জন্য হলেও এই জেলা থেকে একজন সংসদ সদস্য দরকার। দলের কাছে দাবি থাকবে গনতান্ত্রিক উপায় দলীয় ফরম বিক্রির। দল যদি সেটি করে তবে দলীয় ফরম কিনবো। এছাড়া দল মূল্যায়ন করলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নয়নে কাজ করবো ইনশা আল্লাহ।
জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম জাকারিয়া বলেন, সংরক্ষিত আসেন কাকে দিবে এটি দলের সিদ্ধান্তে বিষয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে অনেকের নাম শুনছি। দল তাদের বিষয়ে সেটি বিবেচনা করতেও পারে। কাকে দিবে না দিবে এটা সেন্ট্রালের সিদ্ধান্তের বিষয়।
এম.এ.এ/আ.আ
মন্তব্য করুন: