প্রকাশিত:
৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬:০৪
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) সংসদীয় আসনটিরও নির্বাচনী মাঠ সরগরম হয়ে উঠছে। গ্রাম থেকে শহর, হাটবাজার থেকে চায়ের দোকান সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ত্রয়োদশ সংসদ সদস্য নির্বাচনের আলাপ। আওয়ামী লীগ না থাকায় এ আসনে এবার প্রধান লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের উভয় প্রার্থী এই আসনে হেভিওয়েট এবং নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ৪ বারের সাবেক এমপি অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা। দলটি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন আরোও দুই বিএনপির নেতা। তবে দল শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ ও বয়োজষ্ঠ্য শাহাজাহান মিঞাকেই বেছে নিয়েছেন। এছাড়া ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই জেলা থেকে বিএনপির দুইজন নির্বাচিত হলেও শাহজাহান মিঞা পরাজয় বরন করেন। অপরদিকে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমীর ড. কেরমত আলী। তার এর আগে সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা না থাকলেও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠনের শক্তিকে সামনে রেখে তিনি মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। কৌশলগত কারনে এই আসনটিতে জিততে মরিয়া হয়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।
বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান মিঞা বলেন, আসনটি বিএনপি’র ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মানুষ ধানের শীষে ভোট দেবে। জনগণের ভোটে বিএনপি’র জয় লাভ করবে ইনশাআল্লাহ্।
জামায়াতের প্রার্থী ড. কেরামত আলী বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে তারা দুঃশাসনমুক্ত দেশ গড়তে চায়।
এছাড়া এ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন নবাব মো. শামসুল হুদা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আব্দুল হালিম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী হয়েছেন মো. মনিরুল ইসলাম। তবে তাদের নির্বচানী প্রচার প্রচারণা তেমন চোখে পড়েনি।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আমের রাজধানী আর জেলার মধ্যে রেকর্ড পরিমানে আম উৎপাদন হয় এই উপজেলায়। এছাড়া কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর এই এলাকার অর্থনীতির প্রধান উৎস। তাছাড়া পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কারনে সর্বশান্ত এই উপজেলার পাঁকা, উজিরপুর, দুর্লভপুর ও মনাকষাসহ চারটি ইউনিয়নের জনসাধারন। তাই তারা চাই এমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে যে পদ্মার ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে নিবে কার্যকর পদক্ষেপ। তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ কর্মসংস্থান ও শিক্ষা নিয়ে ভাবছেন, আর বয়স্ক ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সামাজিক নিরাপত্তা ও কৃষি সহায়তা।
শিবগঞ্জ উপজেলা সুজনের সাধারন সম্পাদক এ.কে.এস রোকন বলেন, ভোট দিতে চাই নির্ভয়ে। যাকে খুশি তাকেই ভোট দিতে পারবো- এই নিশ্চয়তা আগে দরকার। তাছাড়া এই উপজেলার উন্নয়ন নিয়ে যে ভাববে তাকেই জনগন বেছে নিবে।
প্রসঙ্গত, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৩১৭ জন। তার মধ্যে, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৮৪ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৩৩ জন।
এম.এ.এ/আ.আ
মন্তব্য করুন: