প্রকাশিত:
২৪ সেপ্টেম্বার ২০২৬, ২০:৪৬
পরিবারের অমতে গিয়ে বাল্যবিয়ে রুখে দিল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সামিরা (ছদ্মনাম)। নিজের ভবিষ্যৎ ও পড়ার স্বপ্ন বাঁচাতে সে সরাসরি উপজেলা প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়। স্থানীয় শ্যামপুর এলাকার এই অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে তার পরিবার।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও মাজহারুল ইসলাম।
জানা গেছে, শ্যামপুরের বাসিন্দা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সামিরার (ছদ্মনাম) পরিবার তাকে অপ্রাপ্তবয়সে বিয়ে দেওয়ার আয়োজন করে। তবে বাল্যবিয়ে না করে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে ভবিষ্যতে পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন দেখত সামিরা। পরিবারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে সে নিজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে এসে উপস্থিত হয় এবং তাকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষার আকুতি জানায়।
ঘটনাটি শোনামাত্রই প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সামিরার পরিবার, তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অফিসে ডেকে আনা হয়। আলোচনার মাধ্যমে বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিক ও আইনি পরিণতি সামিরার পরিবারকে বুঝিয়ে বলা হয়। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় পরিবারটি বুঝতে পেরে এখনই সামিরাকে বিয়ে দেবে না মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করে।
পরবর্তীকালে সামিরার পড়াশোনার বিষয়ে উৎসাহ দিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে নতুন বই, স্কুল ব্যাগ ও পোশাক কেনার জন্য নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
ইউএনও মাজহারুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি প্রথমে শিবগঞ্জ থানায় গিয়েছিল। পরে সেখান থেকে আমার অফিসে পাঠানো হয়। পরে আজকে সকাল ১১ টার দিকে আমার অফিসে মেয়েটি আসে। আমি সম্পন্ন বিষয়টি শুনি। তারপর তার অভিবাবক, ইউপি চেয়ারম্যান ও তার স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ডাকা হয়। মেয়েটির বাবা না থাকার কারণে সংসারে অভাব অনটন রয়েছে। এইসব জানার পর আমি তাদের অভিভাবককে বুঝায় এবং তার পড়ালেখার জন্য সহোযোগিতার আশ্বাস দেয়। তার পড়ালেখা যেন চলমান থাকে এজন্য তার প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি দেখার জন্য বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকেও তাকে সহোযোগিতা করা হবে।
এম.এ.এ/আ.আ
মন্তব্য করুন: