প্রকাশিত:
১৯ জুন ২০২৬, ২০:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক পরবর্তী আলোচনায় ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত দাবি মেনে নেবে না তেহরান। আগামী ৬০ দিনে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হওয়ার অর্থ এই নয় যে, ভবিষ্যৎ সংলাপে ওয়াশিংটনের সব শর্ত মেনে নেবে তেহরান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম মোজতবা খামেনি।
এছাড়া জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মোজতবা খামেনি বলেন, ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত বা সরাসরি আলোচনা হলেও তা শত্রুপক্ষের অবস্থান মেনে নেওয়ার সমান নয়।
খামেনি জানান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আলোচক দলের একাধিক আশ্বাসের ভিত্তিতেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে (MoU) অনুমোদন দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তার ভিন্ন মত ছিল। তবে, জাতীয় স্বার্থ ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের অধিকার রক্ষার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কারণে তিনি অনুমতি দেন।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই বলেন, ইরানের পারমাণবিক উপকরণ দেশের বাইরে পাঠানো হবে না। তবে, আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় ইউরেনিয়াম ডিলিওশন (নিম্ন মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ) করার বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।
ইরান-মার্কিন সমঝোতা স্মারক নিয়ে পর্যবেক্ষকরা জানান, ইরান আলোচনার দরজা খোলা রাখলেও পারমাণবিক কর্মসূচি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে প্রায় চার মাস ধরে চলা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে সার্ভিস ফি-এর মত বেশ কয়েকটি জটিল বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের বুরগেনস্টক রিসোর্ট এলাকায় প্রাথমিক বৈঠকে বসতে পারে। সেখানে দুই দেশের মধ্যে অর্জিত সমঝোতা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও চুক্তি সই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জেনেভায় তার সফর স্থগিত করছেন বলে বিবিসি উর্দুকে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।
প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।
এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।
সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহের ১৪ জুন একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে সম্মতিতে পৌছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।
সূত্র: প্রেস টিভি/ দ্য জেরুজালেম পোস্ট/রয়টার্স/ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: