প্রকাশিত:
৮ অক্টোবার ২০২৬, ১৭:২৯
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়কসহ প্রায় ১৫ জন নার্স ও স্টাফ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল কর্তৃক গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, হাসপাতালে মোট ৬২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যার মধ্যে ১৯ জন পুরুষ, ৩২ জন নারী এবং ১১ জন শিশু (৭ জন ছেলে ও ৪ জন মেয়ে)।
এ ছাড়া পূর্বের মোট ভর্তি রোগী ছিলেন ৮০ জন। আজ নতুন করে হাসপাতালে আরও ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছেন ১৭ জন পুরুষ, ১৭ জন নারী ও ৯ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৫ জন রোগী এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে ছয়জনকে।
চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে অদ্যবধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে সর্বমোট ১ হাজার ৯২৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি বহির্বিভাগে নতুন করে ৩৩ জনসহ এ পর্যন্ত সর্বমোট ১ হাজার ৫২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৩২ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর বা রেফার্ড করা হয়েছে এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইজনে।
হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান বলেন, গত রোববার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। তিনি ঢাকায় নিজ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।হাসপাতালের অর্থো-সার্জারী (হাড়-জোড়) বিভাগের সহকারী সার্জন মো. ফজর আলী লাল ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। তিনিও বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া আরও নার্সসহ ১৩ জন স্টাফ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিতে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য তিনজন চিকিৎসককে জেলা হাসপাতালে সংযুক্তি পূর্বক পদায়ন করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. এ. কে. এম. শাহাব উদ্দীন বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ১৫টি ওয়ার্ডকে ৮ ভাগে বিভক্ত করে টিম গঠন করা হয় এবং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। এই কার্যক্রম মূলত জনসচেতনতা বা এডিস মশার প্রজনন ধংস করা। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাসাবাড়ির মালিককে জরিমানাও করা হয়েছে। আশা করা যায়, এই কার্যক্রম চলমান থাকলে আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যেতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।
এম.এ.এ/আ.আ
মন্তব্য করুন: