[email protected] ঢাকা | মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪শে ভাদ্র ১৪৩৩
thecitybank.com

ভোলাহাটের বিনোদন ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত: মুন্সিগঞ্জ মাঠ ও মহানন্দা তীরের সম্ভাবনা

উপজেলা সংবাদাতা:

প্রকাশিত:
৭ সেপ্টেম্বার ২০২৬, ২০:২৪

মহানন্দা নদী ও মুন্সিগঞ্জ মাঠ। ছবি: চাঁপাই জার্নাল

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার বৃহত্তর বজরাটেক এলাকার মুন্সিগঞ্জ মাঠ ও মহানন্দা নদীর তীর ঘিরে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। পরিকল্পিত উদ্যোগ, নিয়মিত পরিচর্যা ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই এলাকাকে খেলাধুলা, শিশু-কিশোরদের বিনোদন এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

একটি সুন্দর মাঠ শুধু খেলাধুলার জায়গা নয়—একটি মাঠের সবুজ ঘাস, গাছপালা, খোলা আকাশ ও চারপাশের পরিবেশ স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন এবং মনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। তাই বৃহত্তর বজরাটেক গ্রামের মুন্সিগঞ্জ মাঠটিকে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিকভাবে সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি।

মুন্সিগঞ্জ মাঠ হতে পারে বড় টুর্নামেন্টের ভেন্যু। সে সাথে এ মাঠকে নিয়মিত পরিচর্যার আওতায় এনে সমতল ও খেলাধুলার উপযোগী করা হলে এখানে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের স্থানীয়ভাবে ও বৃহত্তর পরিসরের টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। মাঠে উন্নতমানের ঘাস লাগানো, প্রয়োজনীয় গাছপালা সংরক্ষণ ও রোপণ, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, মাঠের সীমানা নির্ধারণ এবং দর্শকদের বসার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা গেলে এটি এলাকার ক্রীড়াপ্রেমী তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

মহানন্দা নদীর তীরে শিশুদের জন্য পার্কের সম্ভাবনা:

মুন্সিগঞ্জ হাট হতে মহানন্দা নদীর তীর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় পরিকল্পিতভাবে সৌন্দর্যবর্ধন করা গেলে পুরো এলাকাটিই একটি মনোরম বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে নদীর ধারে শিশুদের জন্য একটি পরিকল্পিত শিশু পার্ক, হাঁটার জায়গা, বসার বেঞ্চ, ছায়াযুক্ত গাছ এবং পরিচ্ছন্ন খোলা জায়গা তৈরি করা গেলে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঝাউবোনা ব্রীজ থেকে বজরাটেক ঘাট ও মহানন্দা নদীর দিকের কিছু জায়গা দীর্ঘদিন ধরে যথাযথভাবে ব্যবহৃত বা সংরক্ষিত হচ্ছে না। যদি সরকারি বা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত কোনো জমি অবৈধ দখলে থেকে থাকে, তাহলে প্রশাসনের মাধ্যমে সুষ্ঠু জরিপ ও আইনগত যাচাই করে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বৈধভাবে দখলমুক্ত করার সুযোগ থাকলে তা উদ্ধার করে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

মুন্সিগঞ্জ হাট হতে নদী পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন:

মুন্সিগঞ্জ হাট হতে মহানন্দা নদী পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্ত, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন করা গেলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। রাস্তার দু'পাশে পরিকল্পিত ভাবে গাছ লাগানো, পথচারীদের চলাচলের সুবিধা তৈরি এবং প্রয়োজনীয় স্থানে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনা করে সাইকেল, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

মহানন্দার তীরের সৌন্দর্য্য রক্ষা জরুরী:

মহানন্দা নদী ভোলাহাট উপজেলার অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ যা স্থানীয় ও বহিরাগত মানুষের বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। নদীর তীরের ব্লক, রাস্তা ও আশপাশের জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন।

যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং নদীর তীরের সৌন্দর্য রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। নদীর ধারে বসার স্থান, বিভিন্ন ফুলের গাছ এবং ছায়াদানকারী বৃক্ষ রোপণ করা হলে প্রাকৃতিক পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

দোকানপাট হতে পারে পরিকল্পিত ও দৃষ্টিনন্দন:

নদীর তীরবর্তী এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোকে একটি নির্দিষ্ট নকশা ও নিয়মের আওতায় এনে সাজানো যেতে পারে। একই ধরনের সাইনবোর্ড, পরিচ্ছন্নতা, নির্দিষ্ট ময়লা ফেলার ব্যবস্থা এবং পথচারীদের চলাচলের জায়গা নিশ্চিত করা গেলে পুরো এলাকার চেহারা বদলে যেতে পারে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন এবং দর্শনার্থীদের কাছেও জায়গাটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

সবুজায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ:

মুন্সিগঞ্জ মাঠ ও মহানন্দা নদীর তীরজুড়ে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ করা যেতে পারে। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গাছ নির্বাচন করে রাস্তার পাশে, মাঠের চারপাশে এবং নদীর তীরে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করা সম্ভব। একটি মাঠের সবুজ ঘাস, গাছপালা, নদীর বাতাস ও খোলা পরিবেশ মানুষের মানসিক প্রশান্তিরও বড় উৎস হতে পারে।

প্রশাসনের সুদৃষ্টি এখন সময়ের দাবি:

মুন্সিগঞ্জ মাঠ, মুন্সিগঞ্জ হাট, মহানন্দা নদীর তীর এবং আশপাশের খোলা জায়গাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় উন্নয়ন করা হলে ভোলাহাটে একটি সুন্দর বিনোদন ও ক্রীড়াঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্রীড়া সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

স্থানীয় সাধারণ এ সচেতনমহলের প্রত্যাশা—

  • :মুন্সিগঞ্জ মাঠ সংরক্ষণ ও আধুনিকায়ন করা হোক।
  • মুন্সিগঞ্জ হাট থেকে মহানন্দা নদী পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হোক।
  • নদীর তীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করা হোক।
  • সম্ভাব্য সরকারি জমি যাচাই করে অবৈধ দখল থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
  • শিশুদের জন্য পরিকল্পিত পার্ক ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হোক।
  • সাইকেল ও মোটরসাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা করা হোক।
  • নদীর তীরে ও রাস্তার পাশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হোক।
  • স্থানীয় দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে সাজানো হোক।

মহানন্দা নদী ইতোমধ্যেই ভোলাহাটের ও বহিরাগত মানুষের কাছে বিনোদন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ। প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত পরিচর্যা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক উদ্যোগ।

ভোলাহাটের মুন্সিগঞ্জ মাঠ ও মহানন্দা নদীর তীর হোক খেলাধুলা, সবুজ প্রকৃতি, শিশুদের আনন্দ এবং পরিবারের বিনোদনের একটি সুন্দর মিলনস্থল—এটাই স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা।

এম. এস. আই শরীফ/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর