প্রকাশিত:
১০ আগষ্ট ২০২৬, ১৯:১০
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে গত কয়েক বছরের তুলনায় পাশের হার ও জিপিএ-৫—দুটিই কমেছে। সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে বোর্ডের সাত বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালে পাশের হার নেমে এসেছে ৬৩.৬৭ শতাংশে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী।
বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাশের হার ছিল ৭৭.৬৩ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২২ হাজার ৩২৭ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাশের হার কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশীয় পয়েন্ট, আর জিপিএ-৫ কমেছে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ জন।
এর আগে ২০২৪ সালে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ছিল ৮৯.২৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৮ হাজার ৭৪ জন। ২০২৩ সালে পাশের হার ছিল ৮৭.৮৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৬ হাজার ৮৭৭ জন। ২০২২ সালে পাশের হার ছিল ৮৫.৮৮ শতাংশ, আর জিপিএ-৫-এর সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চগুলোর একটি—৪২ হাজার ৫২৭ জন।
তবে ২০২১ সালে পাশের হার আরও বেশি ছিল। ওই বছর ৯৪.৭১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে এবং জিপিএ-৫ পায় ২৯ হাজার ৭০৯ জন। ২০২০ সালে পাশের হার ছিল ৯০.৭৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৬ হাজার ৬৬৯ জন।
২০২৫ সালে মেয়েদের পাশের হার ছিল ৮২.০১ শতাংশ, ছেলেদের ৭৩.৬৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে মেয়েদের ৯১.৯০ শতাংশ এবং ছেলেদের ৮৬.৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে।
জিপিএ-৫-এর ক্ষেত্রেও ২০২৬ সালে মেয়েরা এগিয়ে। এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮ হাজার ৯৯১ জন ছাত্রী এবং ৭ হাজার ৬২২ জন ছাত্র।
বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার। এর মধ্যে উপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার। অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৯০৮ জন।
২০২৫ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৮৩ হাজার, উপস্থিত ছিল প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার এবং অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৪৮২ জন।
২০২৪ সালে পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার, ২০২৩ সালে ২ লাখ ৬ হাজারের বেশি, ২০২২ সালে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার, ২০২১ সালে ২ লাখ ৮ হাজারের বেশি এবং ২০২০ সালে ২ লাখ ৫ হাজারের বেশি।
২০২৬ সালে বোর্ডের ৩৫টি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাস করেছে। ২০২৫ সালে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯৯টি। ২০২৪ সালে ছিল ২৮৯টি, ২০২৩ সালে ১৭৮টি, ২০২২ সালে ১৪৭টি, ২০২১ সালে ৩৯৮টি এবং ২০২০ সালে ৩০৮টি। অর্থাৎ শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাতেও ২০২৬ সালে বড় ধরনের পতন হয়েছে।
একইভাবে ২০২৬ সালে শূন্য শতাংশ পাস করা প্রতিষ্ঠান ৫টি এবং ১ থেকে ৫০ শতাংশ পাস করা প্রতিষ্ঠান ১১টি। অথচ ২০২৫ সালে শূন্য বা ১–৫০ শতাংশ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল না।
এস.এম/আ.আ
মন্তব্য করুন: