প্রকাশিত:
২ সেপ্টেম্বার ২০২৬, ২৩:১৪
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর টলবাড়ি গ্রামে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার অভিযোগে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় জনতা। এ সময় অসামাজিক কাজের আশ্রয়দাতা বাড়িওয়ালা দম্পতিসহ ২ তরুণীকে আটক করা হয়। তবে সুযোগ বুঝে কৌশলে পালিয়ে গেছে ২ যুবক।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, শিকারপুর টলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জালাল উদ্দিন ঝাটু এবং তার স্ত্রী মোসাঃ রানী বেগম দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে বাইরে থেকে তরুণী এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দিচ্ছিলেন। অসামাজিক এ কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
বুধবার স্থানীয়রা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জালাল উদ্দিনের বাড়ি ঘেরাও করে হাতেনাতে ৪ জনকে আটক করে। তবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুই যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পালিয়ে যাওয়া এক যুবকের নাম নূর মোহাম্মদ (পিতা: ফরহাদ) বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ জনতা অসামাজিক কাজে আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে বাড়িওয়ালা জালাল উদ্দিন ঝাটু ও তার স্ত্রী রানী বেগমকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে।
আটক হওয়া দুই তরুণী গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের বেনিচক গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলো—মোঃ সবুর ইসলামের মেয়ে মোসাঃ সাদিদা খাতুন এবং মোঃ দেলোয়ার ইসলামের মেয়ে মোসাঃ মুসলেমা খাতুন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য জহির আলী জানান, রানী বেগম দীর্ঘদিন ধরে নিজে এবং বাইর থেকে মেয়ে এনে অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। আটককৃত দুই মেয়ে স্থানীয় স্কুলের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে, তারা বয়সে অনেক ছোট। ছেলে দুইজন পালিয়ে যাওয়ায় এবং মেয়েদের বয়স বিবেচনায় তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটক দুই মেয়েকে নিয়ে যেতে তাদের অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট ইউপির দুই জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য এবং একজন পুরুষ সদস্যসহ প্রায় ২৫ জন প্রতিনিধি এসেছিলেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় তাদের হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া অত্র বাড়িতে আর কোন অনৈতিক কার্যক্রম চলবে না বলেও স্থানীয়দের আশ্বাস দেন অভিযুক্ত দম্পতি।
এম.এ.এ/আ.আ
মন্তব্য করুন: