[email protected] ঢাকা | শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট ২০২৬, ৩০শে শ্রাবণ ১৪৩৩
thecitybank.com

ভোলাহাটের আসাদুল হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি ইলিয়াস গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রকাশিত:
১৪ আগষ্ট ২০২৬, ১৩:২৭

ছবি: সংগ্রহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থানার চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত আসাদুল হক হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর পলাতক আসামি মোঃ ইলিয়াস (৫৫)-কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৫)।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) রাত আনুমানিক ২:৩০ ঘটিকায় গোমস্তাপুর থানার বারদাবাড়ী বেলনাথপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

ধৃত আসামি ইলিয়াস ভোলাহাট উপজেলার মুশরীভূজা বটতলা এলাকার মৃত আরশাদ আলীর ছেলে।

র‍্যাব-৫, সিপিসি-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের একটি চৌকস অভিযানিক দল গোমস্তাপুরের বারদাবাড়ী বেলনাথপুরে অভিযান চালিয়ে স্থানীয় মোঃ রফিকের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভোলাহাট থানায় হস্তান্তর করেছে। ঘটনা ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন ২০২৬ সন্ধ্যায় ঢাকার মিরপুর-১২ (কালসী) এলাকায় মামলার বাদী মোসাঃ আরজিনুর বেগম ও নিহত আসাদুল হকের ছোট ছেলে মোঃ আবদুর রশীদ রাজমিস্ত্রীর কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ৫-৬ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়।

হামলাকারীরা জানায়, পূর্বে ইলিয়াসের ছেলে দেলোয়ারকে মারধরের প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে নিহত আসাদুলের বড় ছেলে মোঃ আশিক আলী আসামি ইলিয়াসের নিকট বিচার প্রার্থী হলে ইলিয়াস ক্ষিপ্ত হন এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হামলার ছক আঁকেন। এরই জের ধরে পরদিন ১৯ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০:০০ ঘটিকায় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, ধারালো হাসুয়া, ছোরা, রড ও বাঁশের লাঠিসোটাসহ বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে আসাদুল হক ও তার ভাই আশরাফুল হকের বাড়িতে হামলা চালায়।

আসামিরা আলমারি ভেঙে নগদ ৬০,০০০ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে এবং ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে ২টি বাড়ির ৯টি ঘর, সমস্ত আসবাবপত্র ও একটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়, যাতে আনুমানিক ১০-১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

পরবর্তীতে আসামিরা আসাদুল হক, তার ভাই আশরাফুল, নজরুল, ফুজলু ও ছেলে আশিককে ধাওয়া করে বাড়ির পেছনের কাদা-পানির জমিতে নিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। আসামি ইলিয়াসের হুকুম ও প্ররোচনায় অন্যান্য আসামিরা ধারালো হাসুয়া ও ছোরা দিয়ে আসাদুলের মাথায়, মুখে ও চোখে কোপায় এবং বুকে ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। পাশাপাশি পরিবারের একাধিক সদস্যকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে হাত-পায়ের হাড় ভেঙে ফেলা হয়। গুরুতর আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

মাইক্রোবাসে রাজশাহী নেওয়ার পথে আসাদুল হকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফিরিয়ে আনা হয়, যেখানে বেলা ২:৩০ ঘটিকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোসাঃ আরজিনুর বেগম (৪৫) বাদী হয়ে ৪৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করে ভোলাহাট থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১৭, তারিখ: ২০/০৬/২০২৬, পেনাল কোড ধারা-১৪৩/৪৪৮/৪৩৬/৪২৭/৩৮০/৩০৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০২/১১৪/১০৯/৩৪) দায়ের করেন।

র‍্যাব জানায়, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এম.এ.এ/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর