[email protected] ঢাকা | শনিবার, ২০শে জুন ২০২৬, ৫ই আষাঢ় ১৪৩৩
thecitybank.com

ভোলাহাটে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ, নিহত ১, আহত ১২

উপজেলা সংবাদাতা:

প্রকাশিত:
১৯ জুন ২০২৬, ২২:১০

ভোলাহাট থানা। ফাইল ছবি/সংগ্রহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষে আসাদুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বটতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আসাদুল ইসলাম একই গ্রামের ইয়াসিন আলীর ছেলে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অনেক পুরুষ গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ায় গ্রামটি প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রমজানের তৃতীয় দিনে বটতলা গ্রামের ইলিয়াসের ছেলে দেলোয়ার, নিহত আসাদুলের ছেলে আব্দুর রশিদ এবং বাইসাপুকুর গ্রামের শাহীন মোটরসাইকেলে ঘুরতে গিয়ে হতাহতের শিকার হন। এতে দেলোয়ার গুরুতর আহত হয়ে স্মৃতিশক্তি হারান। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আব্দুর রশিদ ও শাহীনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান।

স্থানীয়রা জানান, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিন দিন আগে আব্দুর রশিদ কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকায় যান। সেখানে তাকে কে বা কারা মারধর করেছে এমন খবরের জেরে শুক্রবার সকালে আসাদুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা প্রতিপক্ষের ইলিয়াস এবং তার জামাতাকে বাড়ির পাশের ধানক্ষেতে কাজ করার সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করেন।

এ হামলার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী আসাদুল ইসলাম ও তার ভাই আশরাফুল, আবু তালেব, নজরুল ও ফজলুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তাদের মারধর করা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত গ্রামবাসী আসাদুল ও আশরাফুলের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল ওয়াজিদ ফরহাদ জানান, ঘটনায় আহত ১২ জন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। দুজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আসাদুল ইসলামকে রাজশাহী নেওয়ার পথে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পুনরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বারিক বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে বৃহস্পতিবার আসাদুলের ছেলেকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার আসাদুল ও তার লোকজন প্রতিপক্ষের দুইজনকে মারধর করে। এতে তারা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তারা মারা গেছেন এমন গুজব গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে আসাদুল ও তার ভাইদের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের বাড়িতে আগুন দেয়।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। আসাদুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলেও পথে তার মৃত্যু হয়। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আ.হা.র/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর