[email protected] ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ঠা ফাল্গুন ১৪৩২
thecitybank.com

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ: মূলহোতা যুবলীগ নেতা দুলাল গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রকাশিত:
১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:৫৬

আটককৃত যুবলীগ নেতা শরীফ উদ্দিন দুলাল। ছবি: জেলা পুলিশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় মূলহোতা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুবলীগের সহসভাপতি শরীফ উদ্দীন দুলালকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আটককৃত দুলাল হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে।

জানা যায়, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়ার মৃত মকবুল হোসেনের কালামের বাড়িতে চলছিল ককটেল তৈরির কাজ। এই ককটেল তৈরি করার জন্য এলাকার বাইরে থেকে কারিগর নিয়ে এসেছিল কালামের ছোট ভাই দুলাল। ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দেন তিনি। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে রাজশাহী মেডিকেলের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে পাকা রাস্তার উপর থেকে গ্রেপ্তার করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ.এন.এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে তোলা হবে এবং রিমান্ড চাওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে ফাঁটাপাড়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মো. কালামের বসতবাড়িতে একদল দুষ্কৃতকারী ককটেল তৈরির সরঞ্জামসহ অবস্থান করছিল। সেখানে তারা ককটেল তৈরি করার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যান। এছাড়াও বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হওয়া তিনজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এছাড়া এই ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ ও আরো ৮ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে মামলা দায়ের করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের এসআই বেলাল হোসেন।

মামলার এজারহার সূত্রে জানা যায়, মামলার ১নং আসামী বহিস্কৃত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ রানা টিপু মৌখিক নির্দেশ ও অর্থের সহায়তায় মো: কালাম, ইউসুফ আলী, শাকিল আহমেদ, শাহারুল আলম কালু, বজলুর রহমান, মিনহাজ, শুভ, আলামিন ও জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন এলাকায় নাশকতা মূলক কর্মকান্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি সাধন ও ত্রাস সৃষ্টির লক্ষে ককটেল তৈরির কাজ করছিল। ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটলে পলাতক আসামীগন দিক বেদিক পালিয়ে যায় এবং অন্য আসামী আলামিন ও জিহাদ ঘটনাস্থলেই গুরুত্বতর আহত হয়ে মারা যান। এছাড়া বজলু, মিনহাজ ও শুভ গুরুত্বতর আহত হয় এবং বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নিহতরা হলেন, সদর উপজেলার রাণিহাটি ইউনিয়নের ওপর ধুমিহায়াতপুর এলাকার মোয়াজ্জেমের ছেলে আলামিন (২০) এবং শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের মনিরুল ইসলামের ছেলে জিহাদ (১৭)।

এছাড়া আহত তিনজন হলেন, সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাঁটাপাড়া গ্রামের মো. বজলুর রহমান (২০) ও মো. মিনহাজ (২২) এবং একই উপজেলার রাণিহাটি ইউনিয়নের উপরধুমি এলাকার মো. শুভ (২০)। আহত বজলুর রহমান ও মিনহাজ হলো ককটেল তৈরির মূলহোতা দুলালের চাচা ও ভাতিজা।

এম.এ.এ/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর