প্রকাশিত:
৩ অক্টোবার ২০২৬, ১৬:১৪
“ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন” এই আহ্বানকে সামনে রেখে রাজশাহীতে পালিত হয়েছে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় নজরুল ভিলেজ প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসন, রাজশাহীর আয়োজনে এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ সময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই নিজেদের বাড়ি, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা হলো সচেতনতা ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। শুধু অভিযান চলাকালীন নয়, প্রতিদিনের জীবনযাপনের অংশ হিসেবেই পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “আমরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হই এবং আমাদের চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখি, তাহলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
তিনি সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নিজে সচেতন হোন, অন্যকে সচেতন করুন এবং ডেঙ্গুমুক্ত রাজশাহী গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করুন।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলী, সিনিয়র সহকারী কমিশনার অভিজিত সরকার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. ফারহানা হোসেন, বোরহান উদ্দিন অন্তর, ইয়াছিন মিয়া, প্রিতম চক্রবর্ত্তীসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পরে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে নজরুল ভিলেজ প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এস.এম/আ.আ
মন্তব্য করুন: