[email protected] ঢাকা | বৃহঃস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ই আশ্বিন ১৪৩৩
thecitybank.com

পবায় ‘পবা সার ডটকম’র উদ্বোধন, অনলাইনে দেখা যাবে ডিলারের মজুত

নিজস্ব সংবাদদাতা:

প্রকাশিত:
২২ সেপ্টেম্বার ২০২৬, ২২:১১

ফিতা কেটে উদ্বোধন করছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। ছবি: চাঁপাই জার্নাল

সারের জন্য কৃষকের দীর্ঘ লাইন, কোনো ডিলারের দোকানে সার থাকলেও অন্য জায়গায় গিয়ে খালি হাতে ফেরার অভিযোগ—এমন পরিস্থিতি ঠেকাতে সার বিক্রয় ব্যবস্থাকে ডিজিটাল নজরদারির আওতায় এনেছে রাজশাহীর পবা উপজেলা প্রশাসন। ‘পবা সার ডটকম’ নামে চালু করা ওয়েবসাইটে কোনো ডিলারের কাছে কত সার মজুত আছে, কত বিক্রি হয়েছে এবং কত সার অবশিষ্ট রয়েছে, তা দেখা যাবে। পাশাপাশি কৃষকের জমি ও ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি কত সার কিনেছেন, সেই তথ্যও সংরক্ষিত থাকবে।

সেই লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ওয়েবসাইটটির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।

সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন।

বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, সার কৃষকের উৎপাদন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ, তাই এর সরবরাহ ও বিক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কোন ডিলারের কাছে কত সার আছে এবং কতটা বিক্রি হচ্ছে, তা সহজে নজরদারি করা যাবে। কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সার বিতরণ করা গেলে অপচয় কমার পাশাপাশি প্রকৃত কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর সুযোগ বাড়বে। পবার এই উদ্যোগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও কার্যকরভাবে সার ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।

পবা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পবায় ২২ জন সার ডিলার রয়েছেন। কোনো কৃষক জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়ে সার কিনলে তাঁর কেনার তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে তিনি অন্য কোনো ডিলারের কাছ থেকে কত সার কিনেছেন, তা দেখা যাবে। জমির পরিমাণ ও ফসলের ধরন বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সার নির্ধারণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এবিষয়ে ইউএনও ইবনুল আবেদীন বলেন, বাজারে সার থাকার পরও কেন সংকট তৈরি হচ্ছে, তা বুঝতে কৃষক, ডিলার ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁরা। সেখানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার কেনা ও আগাম মজুতের বিষয়টি সামনে এসেছে। তিনি আরও বলেন, একজন কৃষক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সার কিনলে অন্য কৃষক তাঁর প্রাপ্য সার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এ কারণে কৃষকের জমি ও ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী সার বিক্রির একটি ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি পবায় এক কৃষকের বাড়ি থেকে ১২৯ বস্তা সার জব্দ করা হয় বলে জানান ইউএনও। তাঁর ভাষ্য, ওই কৃষক আলু চাষের জন্য আগাম সার মজুত করেছিলেন। পরে জব্দ করা সার সরকারি কোষাগারে বিক্রি করে প্রায় এক লাখ ৯৭ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটে ডিলারের মজুত, বিক্রি ও অবশিষ্ট সার প্রশাসনের ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে। সার দিতে অস্বীকৃতি, ওজনে কম দেওয়া, রসিদ না দেওয়া বা বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও জানাতে পারবেন কৃষকেরা। অভিযোগের জন্য আলাদা নিবন্ধন বা লগইন লাগবে না।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত সার থাকার পরও কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হয়েছে- এমন অভিযোগ তাঁরা পেয়েছেন। সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে পবা উপজেলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একজন ডিলার কত সার বরাদ্দ পেলেন, কত বিক্রি করলেন এবং কত সার অবশিষ্ট থাকল—এসব তথ্য ওয়েবসাইটে দেখা যাবে। এতে সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে। তিনি আরও জানান, পবায় উদ্যোগটি সফল হলে রাজশাহী জেলার অন্য উপজেলাতেও এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এস.এম/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর