প্রকাশিত:
২১ সেপ্টেম্বার ২০২৬, ১৫:২৫
গ্রামীণ পর্যায়ে বিরোধ ও ছোটখাটো মামলা দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন করার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদে ইউনিয়ন পরিষদ ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে গ্রাম আদালত বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ আবদুল মালেক, গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মো. আমিনুর রহমান ও কাজী মামুনুর রশিদ।
সভায় বক্তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের ছোটখাটো বিরোধ ও মামলা দ্রুত এবং আইনসম্মতভাবে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও এখতিয়ার সম্পর্কে অনেক মানুষের পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় এর সুফল সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ আবদুল মালেক বলেন, ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ যেন নিজেদের ছোটখাটো বিরোধ ও আইনগত সমস্যার সমাধানের জন্য যথাযথ জায়গায় যেতে পারেন, সে বিষয়ে তাদের সচেতন করা জরুরি। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। তাই জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জানাতে হবে।
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মো. আমিনুর রহমান গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, এখতিয়ার ও সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের উদ্দেশ্য হচ্ছে স্থানীয় জনগণের জন্য সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি করা। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, কমিউনিটি নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
কাজী মামুনুর রশিদ গ্রাম আদালতের আওতাভুক্ত বিভিন্ন ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আইনসম্মতভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালতের সুযোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে। কোনো বিরোধ বা সমস্যা দেখা দিলে অনানুষ্ঠানিকভাবে পঞ্চায়েত বা সালিশের পরিবর্তে আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
বক্তারা আরও বলেন, গ্রাম আদালতকে কার্যকর করতে জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা, যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। গ্রাম আদালতের এখতিয়ার, কার্যক্রম ও সেবা সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো গেলে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি মানুষের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমানো সম্ভব হবে।
মতবিনিময় সভায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, যুব প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মো. করিমোল্লাহ/আ.আ
মন্তব্য করুন: