প্রকাশিত:
১৪ আগষ্ট ২০২৬, ১৮:৪৫
রাজশাহী নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ ও র্যালি করেছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জুমার নামাজের পর ‘বখতিয়ারাবাদ যুব সমাজ’-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর বখতিয়ারাবাদ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বয়োজ্যেষ্ঠ ও যুবকরা একত্রিত হয়ে একটি মাদকবিরোধী র্যালি বের করেন। বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিয়ে র্যালিটি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সেটি বোয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং মাদক নির্মূলের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় মাদকের বিস্তার দিন দিন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু-কিশোর ও উঠতি বয়সের তরুণরা সহজেই মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ছোট বয়সে সন্তানরা মাদকে জড়িয়ে পড়ায় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন অভিভাবকরা।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই নয়, পুরো পরিবার ও সমাজের ধ্বংস ডেকে আনছে। মাদকের সহজলভ্যতা বন্ধ করা এবং কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
এ সময় স্থানীয়রা পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তারা বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এলাকাবাসী আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।
এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে বোয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেন। তিনি জানান, শনিবার (১৫ আগস্ট) বোয়ালিয়া থানা থেকে বিশেষ পুলিশ ফোর্স এনে ওই এলাকায় মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।
পুলিশের এই আশ্বাসে স্থানীয়রা সাধুবাদ জানালেও তারা দাবি করেন, শুধু একদিনের অভিযান নয়, বরং মাদক পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে কেবল শাস্তি নয়, মাদকে আসক্ত কিশোর-তরুণদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পুনর্বাসন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ারও জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।
এস.এম/আ.আ
মন্তব্য করুন: