[email protected] ঢাকা | মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই ২০২৬, ২২শে আষাঢ় ১৪৩৩
thecitybank.com

রাজশাহীতে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে বালুর দাম দ্বিগুণ, স্থবির উন্নয়নকাজ

চাঁপাই জার্নাল ডেস্ক:

প্রকাশিত:
৬ জুলাই ২০২৬, ২২:২২

ছবি: সংগ্রহীত

রাজশাহী অঞ্চলের বালু ব্যবসায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বালুর দাম প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্মাণসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও ঠিকাদাররা। এর ফলে নির্মাণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও আবাসন খাতে স্থবিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে বর্তমানে একটি মাত্র বালুমহাল থেকে বালু সরবরাহ করা হচ্ছে। এই সুযোগে ইজারাদার পক্ষ ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বালু মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। এতে নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে দাবি তাদের।

সূত্র জানায়, গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী বালুমহালের ইজারা পেয়েছে হক এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কাটাখালী পৌরসভার শ্যামপুর মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা রাজু আহমেদ মামুন।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ছয় মাস আগেও ৭৫০ সেফটি ধারণক্ষমতার ১০ চাকার একটি ট্রাক বালুর দাম ছিল প্রায় ৬ হাজার টাকা। প্রেমতলী বালুমহালের ইজারা দেওয়ার পর দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তা ১৪ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে দাম কিছুটা কমে সাড়ে ১০ হাজার টাকায় নেমেছে।

তিনি বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ চলছে। বালুর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ঠিকাদারদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

রাজশাহী চেম্বারের আরেক পরিচালক ও মানহা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহ মাইনুল হোসেন চৌধুরী শান্ত জানান, সিটি করপোরেশন ও এলজিইডির প্রায় ১৬ কোটি টাকার দুটি সড়ক প্রকল্পে কাজ করছেন তিনি। বালুর দাম বেড়ে যাওয়ায় চার দিন আগে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার গাজী কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী সালাউদ্দিন গাজী অভিযোগ করেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আপত্তির কারণে এ বছর শ্যামপুর বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। তবে ওই মহালের আগের ইজারাদার হক এন্টারপ্রাইজের মালিক ও সহযোগীরা প্রায় ২০ লাখ সেফটি বালু আগেই মজুত করেছিলেন। একই সঙ্গে প্রেমতলী বালুমহালের ইজারা পাওয়ায় বর্তমানে তাদের হাতেই বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মাইসা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইয়াহিয়া খান মিলু বলেন, জেলার শতাধিক ঠিকাদার সরকারি ভবন, সড়ক ও অন্যান্য উন্নয়নকাজে সম্পৃক্ত। ইতোমধ্যে অনেকেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। দ্রুত দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সম্মিলিতভাবে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বালুর মূল্যবৃদ্ধির কারণে নির্মাণ খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহীর (রেডা) সাধারণ সম্পাদক আ.স.ম. মিজানুর রহমান কাজী। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে নির্মাণকাজ প্রায় থমকে গেছে এবং ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।Maps

এদিকে, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধিদল রোববার রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি তুলে ধরেন। চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি শামসুর রহমান শান্তন জানান, পুলিশ কমিশনার বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী আবেদন করা হবে।

জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অভিজিত সরকার বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২৫-এ ইজারামূল্য নির্ধারণের বিধান থাকলেও বালুর বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। তবে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইজারাদার রাজু আহমেদ মামুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে তার ব্যবসায়িক অংশীদার রমজান আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ড্রেজিং ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে চাহিদা অনুযায়ী বালু উত্তোলন সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া উন্নতমানের বালু হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি। তিনি দাবি করেন, শ্যামপুরে মজুত বালু শেষ হয়ে গেছে এবং সিন্ডিকেট বা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

ডেস্ক/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর