[email protected] ঢাকা | বৃহঃস্পতিবার, ৫ই মার্চ ২০২৬, ২০শে ফাল্গুন ১৪৩২
thecitybank.com

‘আমেরিকায় বাড়ি কিনেছে’ খবরে আসিফ নজরুল বললেন—হাসব না কাঁদব বুঝতে পারি না

চাঁপাই জার্নাল ডেস্ক:

প্রকাশিত:
৪ মার্চ ২০২৬, ২১:২০

আসিফ নজরুল। ফাইল ছবি/সংগ্রহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘আসিফ নজরুল আমেরিকায় বাড়ি কিনেছে। বউ-বাচ্চা সব আমেরিকায় চলে গেছে। সেও শিগগরই আমেরিকায় ভেগে যাবে—এরকম একটা গাজাখুরি খবর বছরখানেক আগে ইউটিউবে ছাড়া হয়।

বিপুল সংখ্যক মানুষ এটি দেখেন এবং ভয়াবহ বিষয় হলো, তাদের কেউ কেউ তা বিশ্বাস করা শুরু করেন! এর কিছুদিন পর খালেদ মুহিউদ্দিনের একটি অনুষ্ঠানে প্রসঙ্গটি ওঠে। আমি হাসব না কাঁদব বুঝতে পারি না। শুধু বলি, আমেরিকায় বাড়ি কিনলে রেকর্ড থাকে, কেউ তা লুকাতে পারে না। আজ বুধবার (৪ মার্চ) সামাজিকমাধ্যমে নিজ ফেরিফায়েড আইডিতে একটি স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, খালেদের অনুষ্ঠানে আমি সকল ইউটিউবার, সাংবাদিক ও গোয়েন্দাদের চ্যালেঞ্জ করি—আমেরিকায় আমার বাড়ি থাকলে তার প্রমাণ খুঁজে বের করার জন্য। (আমি এই অনুরোধও করি, এই সংবাদের সত্যতা বের করতে না পারলে যে মিথ্যাবাদীরা এটি ছড়িয়েছে, তাঁদের কোনো কথা যেন কেউ বিশ্বাস না করে।) এই চ্যালেঞ্জ জানানোর পর প্রায় আট মাস অতিবাহিত হয়েছে। আমেরিকায় আমার বাড়ি আছে—এমন কোনো ঠিকানা, দলিল, সাক্ষ্য-প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। পারার কথাও নয়। কারণ আমেরিকা কেন, বাংলাদেশের বাইরে পৃথিবীর কোনো দেশেই আমার বাড়ি নেই। কোনো রকম সম্পত্তিও নেই।

তিনি বলেন, নানা ধরনের গুজব কিছুটা হ্রাস পায় এরপর। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের পর হঠাৎ পরিস্থিতি বদলে যায়, আমার (এবং আমার কিছু সহকর্মীর) তথাকথিত দুর্নীতির নতুন নতুন খবর ডালপালা মেলতে শুরু করে। প্রথমে ফালতু অনলাইনে, তারপর কপি-পেস্ট করে প্রায়-ফালতু অনলাইনে, তারপর এমন সব কুখ্যাত অপরাধীদের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যমে যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে খুব একটা আনন্দে থাকতে পারেনি। এইসব খবর আমার সহকর্মীদের অনেকে পাত্তাই দিতে চান না। আমিও চাই না। কিন্তু আমি জানি আমাকে বহু মানুষ ভালোবাসেন, আমার জন্য দোয়া করেন। তাদের একজনও যদি এসব মিথ্যোচারে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমার কিছু কথা স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন। আমার বক্তব্য এখানে অন-রেকর্ড বলে রাখলাম তার মতো মানুষদের এবং অন্য যে কারো জন্য

বক্তব্য-১

আমি সরকারে থাকা অবস্থায় বা এর আগে-পরে জীবনে কখনো কোনো দুর্নীতি করিনি। এক টাকা—আবার বলি, এক টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমার জ্ঞাতসারে কাউকে দুর্নীতি করতেও দিইনি। আমি কোন নতুন ব্যংক একাউন্ট খুলিনি, আমার কোন নতুন সম্পদ হয়নি, আয়কর দেয়ার সময় আমি কোন সম্পদ অপ্রদর্শিত রাখিনি। আমি কোন দুর্নীতি করিনি, করার প্রশ্নই আসে না।

বক্তব্য-২

আমি কোনো স্বজনপ্রীতিও করিনি। সরকারে থাকা অবস্থায় আমার পরিবার বা আত্মীয়স্বজনকে বিন্দুমাত্র সুবিধা দিইনি বা তাঁদের কোনো অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিইনি। আমি প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছি, একজন আত্নীয়কেও নিয়োগ দেইনি। আমার আত্নীয়রা কখনো কারও পক্ষে তদবির করার সুযোগও পাননি।

বক্তব্য-৩

আমি কখনো এলাকাপ্রীতি করিনি। উপদেষ্টা থাকাকালে আমার গ্রামের বাড়ি বা ঢাকা শহরে, যেখানে আমি বেড়ে উঠেছি, সেখানে একবারও যাইনি। তবে আমি লালবাগ শাহী মসজিদের জরুরি উন্নয়নের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অল্প কিছু আর্থিক সহযোগিতা নিয়মানুগভাবে পেতে সহযোগিতা করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ডাকসুর আবেদনক্রমে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে অনুরোধ করে ঢাবির খেলার মাঠের উন্নয়নের জন্য কিছু অনুদান এনে দিয়েছি। এর বাইরে কারও জন্য অনুদানের অনুরোধও আমি কখনো করিনি।

আমি বহু জঘন্য ও পৈশাচিক মিথ্যাচার সহ্য করে যাচ্ছি। আমাদের মহানবী (সা.) থেকে শুরু করে বহু উলামায়ে কেরাম এরচেয়েও বহুগুণ মিথ্যাচার ও অপবাদের শিকার হয়েছেন। আমি তাদের তুলনায় নিতান্ত নগণ্য মানুষ। কিন্তু চুরি করে বা অন্যের হক মেরে বেঁচে থাকার জন্য আমার জন্ম হয়নি। আল্লাহ আমাকে এভাবে সৃষ্টি করেননি। যারা আমার বিরুদ্ধে অপবাদ রটাচ্ছেন, আপনাদের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করার রুচি আমার নেই। কিন্তু এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে যে, দিনশেষে আমার কোনো ক্ষতি আপনারা করতে পারবেন না। আমাকে গত বিশ বছরে বহু অপবাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো লাভ হয়নি। আল্লাহ আছেন, আমার জন্য তিনিই যথেষ্ট। হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল।

ডেস্ক/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর